হঠাৎ করেই দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্রিকেট জীবনে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য খুব কম ক্রিকেটারেরই আছে। তবে মাত্র ৩৪ বছরে ডি ভিলিয়ার্সের অবসরে সিদ্ধান্ত অনেকটা হতাশ হওয়ার মতোই ছিল। তবে এই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো বিষয়টি যতটা না আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো, তার থেকে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই অবসর নেয়ার কারণ জানিয়ে।

তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও লিগ খেলাগুলিতে তার উপস্থিতি স্কুলের সুবোধ বালকের মতোই। সাথে সাথে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোতে তার পারফর্ম্যান্স অসাধারণ। তবে ফিট থাকার পরও কেন তিনি জাতীয় দল থেকে সরে আসলেন তার কারণটি এবার অনেকদিন পর বেক্ষা করলেন।

এতো অল্প বয়সে অবসর নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি মজা করে বলেন,
‘২০২৩ বিশ্বকাপের সময় আমার বয়স কত হবে? ৩৯! ধোনি যদি এখনও খেলতে পারে তাহলে আমিও আবার ফিরে আসতে পারি।’ পরে অবশ্য জানা যায় তিনি এই কথাটি মো দুষ্টামি করে বলেছিলেন। তবে একটা কথা তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে তার আর জাতীয় দলে ফেরার কোনো সম্ভবনা নেই।

আর তাই তো দি ভিলিয়ার্সের ভক্তদের ২০১৯ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ ব্যাটিং স্টাইল উপভোগ করতে না পাড়ার অভিমান থাকবে। তবে ভিলিয়ার্সের মনের দুঃখও কিন্তু কম না। অবশ্য কিছুদিন আগেই তিনি বলেছিলেন জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার জন্য তার কোনো কষ্ট নেই। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছাটা যে তার প্রবল ছিল এই কথাটা তিনি গোপন রাখেননি।

তবে হঠাৎ করেই তার অবসরের ঘোষণার পিছনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন তার উপর সিদ্ধান্তটা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। এমনকি কখন, কীভাবে তিনি খেলবেন সেটাও অন্য কেউ ঠিক করে দিচ্ছিল। নিজের উপর চাপিয়ে দেয়ার এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতেই তিনি শেষমেশ অবসরের ঘোষণা দেন। অবশ্য তার উপর কে এই ধরণের সিদ্ধান্তগুলোকে চাপিয়ে দিতো সেটা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।

থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি খ্যাত এই ব্যাটসম্যানের ভাষ্যমতে, ‘আমি নিজেও ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু আমি অবসর নিয়েছি। আমি খুব ঠাণ্ডা মাথায় এ সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। আমার ক্যারিয়ারের শেষ তিন বছর পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, আমি কখন খেলবো আর কখন খেলবো না তা অন্য কেউ ঠিক করে দিচ্ছিলো। এছাড়া দেশে ফিরলেই কারণে-অকারণে সমালোচনার শিকার হচ্ছিলাম। এটাও অবসরের অন্যতম কারণ।’

এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসর গ্রহণের আগে ১৯১ টেস্ট ইনিংসে ৮৭৬৫ রান, ২২৮ ওয়ানডের ২১৮ ইনিংসে ৯৫৭৭ ও ৭৮ টি-টোয়েন্টির ৭৫ ইনিংসে ১৬৭২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও তার নামের পাশে আছে ৯টি উইকেট।

মন্তব্য: