বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়লো নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রানের ইনিংস এসেছে টেলরের ব্যাট থেকে।

এর আগে মঙ্গলবার বৃষ্টির বাধায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৪৬.১ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ফলে ম্যাচ গড়ায় বুধবার রিজার্ভডেতে।

মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাদের ব্যাটিংয়ের শুরুটা পরিকল্পনা মাফিক হয়নি। মাত্র ১ রানের মাথার ব্ল্যাক ক্যাপসদের উদ্ধোধনী জুটির ব্যটাসম্যান গাপটিলের উইকেট হারায় তারা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বুমরার বলে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১৪ বল থেকে ১ রান করেন।

দ্বিতীয় উইকেটে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব বর্তায় নিকোলাস ও উইলিয়ামসনের কাঁধে। যা তারা ভালোই সামলাচ্ছিলেন। তবে এই জুটির ৬৮ রানের মাথায় নিকোলাসকে বোল্ড আউট করে ফেরান জাদেজা। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে আউট হয়ে ৫১ বল থেকে ২৮ রান নিয়ে প্যাভিলিয়লনের পথ ধরেন নিকোলাস।

তৃতীয় উইকেটে উইলিয়ামসন ও টেইল জুটি রানের গতি হারায়। এই জুটিতে উইলিয়ামসন এক পাশ থেকে রানের চাকা সচল রাখতে পারলেও অন্যপ্রান্তে ডট বল খেলে চাপ বাড়াচ্ছিলেন টেলর। ১০২ বল খেলে ৬৫ রানের জুটি গড়ার পর বড় শর্ট খেলতে গিয়ে চাহলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় উইলিয়ামসনকে। আউট হওয়ার আগে তিনি ৯৫ বল থেকে ৬টি বাউন্ডারিতে ৬৭ রান করেন।

উইলিয়ামসনের বিদায়ের পর ক্রিজে বেশি সময় স্থায়ী হতে পারেননি টেলর ও নিশাম জুটি। ৩৫ বল থেকে এই জুটির ২৮ রানের মাথায় আঘাত আনেন পান্ডিয়া। ১৮ বল থেকে এক বাউন্ডারিতে ১২ রান করা নিশামকে ক্যাচ আউট বানিয়ে বিদায় করেন।

পঞ্চম উইকেটে ব্যাট করতে নামা গ্রন্ডহোমকে নিয়ে ৭০ বল থেকে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন টেলর। তবে এই জুটিতে ২২ বল থেকে ৩৮ রান তোলেন তারা। দলীয় ২০০ রানে গ্রান্ডহোমকে ক্যাচ আউট করেন ভুবনেশ্বর।

এরপর টেলর ও ল্যাথাম ৯ বল থেকে ১১ রানের জুটি গড়ার পর বৃষ্টিতে খেলা হয়ে যায়। আজ রিজার্ড ডেতে এই জুটিতে টেলর ৮৫ বল থেকে ৬৭ রান ও টম ল্যাথাম ৩ রান নিয়ে ক্রিজে নামেন।

এ সময় তারা বড় শর্ট খেলার চেয়ে ডাবল রান নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন। তবে দলীয় স্কোর যখন ২২৫ তখন জাদেজার ডাইরেক্ট থ্রোতে রান আউট হন টেলর। চার নম্বরে ব্যাট করেত নেমে তিনি ৯০ বল থেতে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৪ রান করে প্যাভিলনের পথে হাটা দেন।

এরপর ক্রিজে থাকা অন্য সেট ব্যটসম্যান ল্যাথাম ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে থাকা জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ রান করে ফিরে যান। বাকি ১১ বল থেকে ১৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি কিউইরা। শেষ দিকে ল্যাথাম ৬ বল থেকে ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ভারতের পেসাররা এই ম্যাচেও বল হাতে জাদু ছড়িয়েছেন। ভুবনেশ্বর ৪৩ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া বুমড়া ৩৯, জাদেজা ৩৪ রানে ১টি করে উইকেট নেন।

মন্তব্য: