কাল থেকে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। এই আসরেকে ঘিরে এখন অংশ নেওয়া দশটি দলের যত জল্পনা কল্পনা। তবে এটি আইসিসি দ্বাদশতম আসর হলেও এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন। গেলবারের আসর গুলো থেকে ২৪ ঘন্টারও কম ব্যবধানে দূরত্বে থাকা এই আসরে বাংলাদেশকে আলাদা ভাবে দেখছে প্রতিপক্ষরা।

তবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল কেমন করবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২জুন তারিখ পর্যন্ত। কারণ এই দিনই আফ্রিাকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে মাশরাফিরা। চলুন তার আগে জেনে নেওয়া যাক আগের ৫ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের পারফরম্যান্স।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উত্থান ১৯৯৯ সালে। সেবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয় নটিংহ্যামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সে আসরে ৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলেও, হারিয়েছিলো স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস এনে দিনে সাহায্য করেছিলো।

স্বপ্নের মতো শুরু। পরের আসরেই দু:স্বপ্নের কালোছায়া। দল নির্বাচন নিয়ে নির্বাচকদের একগুয়েমি, অনভিজ্ঞতা আর ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ, লজ্জার বিশ্বকাপে পরিণত হয়। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে হারে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের তালিকায় ছিলো কানাডা, কেনিয়ার মতো দলও।

অনেকের মতে ২০০৭ আসর বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ। তামিম, মুশফিক, সাকিবদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে ছিলো টিম টাইগার্স বীরত্বে। গ্রুপ পর্বে এরপর বারমুডাকে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নেয়। পরের রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারায় বাংলাদেশ। তবে হেরে যায় আইরিশদের কাছে। সে আসরে ১০ ম্যাচে ৩ জয় ছিলো টাইগারদের।

ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য ছিলো অম্ল-মধুর। ইনজুরির কারনে দলে জায়গা হয়নি মাশরাফি বিন মর্তুজার। সাকিবের নেতৃত্বে গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচে ৩ জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের সাথে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাও সেবার সঙ্গী হয়েছিলো।

অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ এক দল নিয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপে নামে বাংলাদেশ। অনেক অর্জনের আসর। আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টির কল্যাণে এক পয়েন্ট সেরা আটে ওঠার সুযোগ করে দেয়। গ্রুপের পঞ্চম ম্যাচে ইংলিশ বধের মাধ্যমে প্রথমবার বিশ্বআসরের নকআউট পর্বে জায়গা পায়ে বাংলাদেশ।

মন্তব্য: