ক্যারিয়ারে ভালো করার জেদ আছে বলেই সাব্বির রহমান বাকিদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সমালোচনার জাল ছিঁড়ে বের হয়ে ফেব্রুয়ারিতে দলে ফিরেই আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পান তিনি।

সাব্বির হলেন দেশের স্টাইলিস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম একজন। অথচ অন্ধকার আর অসুন্দরের ছোঁয়ায় ধ্বংস হতে বসেছিল তার ক্যারিয়ার। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দর্শকের সঙ্গে বাজে আচরণ এসব কারণে বিসিবির নিষেধাজ্ঞাসহ আর্থিক শাস্তি পেয়েছেন কয়েক দফা। জাতীয় দলের বাইরেও ছিলন মাস ছয়েক। তবে নিজের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাতে সঠিক সময়েই দলে ফিরেছেন সাব্বির।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি পাগলামি সাব্বিরের। তার হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়ের নাম ডাক জন্মস্থান রাজশাহী ছাড়িয়ে দেশের ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

২০১০ যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন সাব্বির। স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় সাব্বিরের। এরপর ২০১৫ সালে তার টেস্ট অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় ২০১৪ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীলংকার বিপক্ষে।

টি-টোয়েন্টিতে সাব্বিরের অভিষেকের পর সবাই ভেবেছিলো সে হবে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টির জন্য বড় আবিষ্কার। তবে সেই সম্ভাবনা ডানা মেলেনি। সমালোচনা যেন পিছু ছাড়েনা সাব্বিরের। ছাড়বেই বা কিভাবে, উশৃঙ্খল জীবন যাপনে বিরতি দেননি যে কখনোই।

৬১টি ওয়ানডে খেলে সাব্বিরের সংগ্রহ ১২১৯ রান আর সেঞ্চুরি আছে এক ইনিংসে। তার গড় রান প্রায় ২৬। তবে, তার স্ট্রাইকরেট দলের অন্যতম সেরা ৯১.৫১। তবে বিশ্বকাপে সাব্বিরের স্ট্রাইকরেট আর একটু বেশিই ভালো। গত বিশ্বকাপ আসরে ৬ ম্যাচ খেলে সাব্বির রান করেছেন ১৮২। বিশ্বকাপে তার স্ট্রাইকরেট ৯৮.৩৭। ২০১৫ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার দেওয়া সাত নম্বর পজিশনে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছেন সাব্বির রহমান। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইনফর্ম মোসাদ্দেক হোসাইন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা ফিল্ডারদের একজন সাব্বিরের মানসিক দৃঢ়তা বেশ শক্তপোক্ত। সেটা আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখিয়ে পরিবর্তনের সুর তুলতে চান তিনি। আন্দ্রে রাসেল কিংবা হার্দিক পান্ডিয়া না হয়েতিনি সাব্বির রহমান হয়ে খেললেই উৎসবে মেতে উঠবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য: