বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের একপ্রকার নাস্তানাবুদ করে হারিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ইনিংস ও ১৩০ রানের বাবধানের হারের ম্যাচে বাংলাদেশ টেস্ট দল ভারতের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।

তবে বাংলাদেশের মাটিতে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ম্যাচে ঠিক উল্টোটাই হয়েছে। সেখানে ভারতকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে ভারত। ভারতের দেয়া ২৪৭ রানের টার্গেট বাংলাদেশ ৭.৫ ওভার ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায়।

ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত দলীয় ১৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায়। হাসান মাহমুদের বলে ভারতীয় ওপেনার শরৎ ১২ রান করে আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

এরপর জুয়াল ও সানভির সিং মিলে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেস্টা করেন। দলীয় ৬১ রানের মাথায় সৌম্য সরকারের বলে সানভির ২৬ রান করে আউট হয়।

এরপর এক রানের ব্যাবধানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ভারত। দলীয় ৮৭ রানে মেহেদী হাসানের বলে জুয়াল (৩৭) ও ৮৮ রানের মাথায় সুমন খানের বলে রাথোড (০) রানে আউট হন।

এরপরই আবার দারুণ এক জুটিতে ম্যাচে ফেরে ভারত। আরমান জাফর ও বিনয়ক গুপ্তা জুটি ৮৮ থেকে ২১৩তে নিয়ে যায় দলীয় রান। গুপ্তা ৪০ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। সৌম্য সরকারের বলে আউট হন তিনি।

এরপর একপাশে জাফর দাড়িয়ে থাকলেও অন্য প্রান্তে পরপর দুই উইকেট হারায় ভারত। দুজনেই আউট হন শূন্য রানেই। অন্য ক্রিকেটারদের সাথে আসা যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন জাফরও। ৯৮ বলে ১০৫ রান করা জাফর ২১৯ রানের মাথায় সুমন খানের বলে ইয়াসির আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সুমন খান ৪টি, সৌম্য সরকার ও তানভীর ইসলাম ২টি করে উইকেট লাভ করেন। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান নেন ১টি করে উইকেট।

জয়ের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় টাইগাররা। দলীয় ১৫ রানের মাথায় নাঈম শেখ ৯ বলে ১৪ রান করে আউট হলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপরই দারুণ এক জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুজনের ব্যাটিং তোপে রীতিমত অসহায় ছিল ভারত। দুজনে মিলে ১৪৪ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৭৩ রান করে সৌম্য আউট হলে এই জুটি ভাঙে। ৬৮ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

সৌম্যর মতই হতাশ হতে হয় শান্তকে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন তিনি। ৮৮ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯৪ রানের দারুন এক ইনিংস খেলে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে আফিফ ও ইয়াসির আলীর ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় পায় বাংলাদেশ। এই জুটিতে ৪১ রান আসে। বাংলাদেশের জয় যখন সময়ের ব্যাপার তখনই ২১ রান করে আউট হন ইয়াসির আলী।

ইয়াসিরের আউটের সময় জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ছিল বাংলাদেশ। সেটা নিতে কোন সমস্যাই হয়নি আফিফ ও জাকিরের। আফিফ ৩৪ ও জাকির ২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

প্রথম ম্যাচে হংকংকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল টাইগাররা। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।

মন্তব্য: