পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে করাচি কিংসের পেসার হাসান আলীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। লেভেল-১ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। নিজের ভুল স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন তিনি।
পিসিবির আচরণবিধির ২.৫ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর এমন কোনো আচরণ, ভাষা বা অঙ্গভঙ্গি করা যাবে না, যা তাকে অপমানিত করতে পারে বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। লাহোর কালান্দার্সের ইনিংসের ১৯তম ওভারের শেষ বলে হসিবুল্লাহ খানকে আউট করার পর হাসান আলীর উদযাপনকে উসকানিমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ফলেই তাকে এই জরিমানা গুনতে হয়েছে।
মাঠের এই বিতর্ক থাকলেও পারফরম্যান্সে ছাপ ফেলেনি করাচি কিংস। পাকিস্তান সুপার লিগের ১১তম আসরের ষষ্ঠ ম্যাচে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সকে ৪ উইকেটে হারায় তারা।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি করাচির। মাত্র ১০ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার (৮) ও সালমান আলি আঘা (০) দ্রুত ফিরে যান, দুজনকেই আউট করেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেন মুহাম্মদ ওয়াসিম। সা’দ বেগ (১৯) ও মঈন আলির সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেন তিনি। ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে তিনটি চার ও একটি ছক্কা ছিল ওয়াসিমের।
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় ম্যাচে থামল মুস্তাফিজের দল লাহোর
তবে ১৫তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন শাহীন। পরপর ফিরে যান ওয়াসিম ও মঈন (১৮), ফলে করাচির স্কোর দাঁড়ায় ৮৮/৫—ম্যাচ তখন অনিশ্চিত। এই অবস্থায় খুশদিল শাহ ও আজম খান ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচে নতুন সমীকরণ তৈরি করেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪ রান।
ঠিক তখনই ম্যাচে আসে নাটকীয় মোড়। বল টেম্পারিংয়ের দায়ে লাহোরকে ৫ রান পেনাল্টি দেয় আম্পায়াররা, ফলে করাচির প্রয়োজনীয় রান কমে দাঁড়ায় ৯, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ ওভারের প্রথম বলেই হারিস রউফ খুশদিল শাহকে (১৩) ফিরিয়ে দিলেও পরের মুহূর্তে আব্বাস আফ্রিদি ম্যাচ নিজেদের করে নেন। টানা একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। লাহোরের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে লাহোর কালান্দার্স ৯ উইকেটে ১২৮ রানে থামে। আবদুল্লাহ শফিক ৩৩, হসিবুল্লাহ ২৮ ও সিকান্দার রাজা ১৯ রান করলেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। পারভেজ হোসেন ইমন করেন ১২ বলে ১২ রান।
করাচির বোলিং আক্রমণে অ্যাডাম জাম্পা, মীর হামজা ও মঈন আলি নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে উইকেট ভাগাভাগি করেন। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংই শেষ পর্যন্ত লাহোরকে চাপে ফেলে এবং করাচির জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।