প্রস্তুতি ম্যাচে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও পারফরম্যান্সে কিছু ঘাটতি ছিল আর্জেন্টিনা দলের। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে নামা লিওনেল মেসি নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি। তবে পরের ম্যাচেই সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে দলটি। কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু থেকেই মাঠে নামেন মেসি, আর তার উপস্থিতিতে জাম্বিয়ার বিপক্ষে গোলবন্যা বইয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ। এরপর বিরতির ঠিক আগে নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৪০টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি, যা আর্জেন্টিনার অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেও আক্রমণের ধার কমায়নি আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান নিকোলাস ওতামেন্দি। থিয়াগো আলমাদাকে ফাউল করার ফলে পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। এরপর ৬৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন জাম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দা, যা আর্জেন্টিনার লিড আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ চোটে ছিটকে গেলেও পর্তুগালের ভরসা রোনালদো
যোগ করা সময়ে আসে ম্যাচের শেষ গোল। ভ্যালেন্টিন বারকোর নেওয়া শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে আবারও চান্দার পায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। ফলে বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের আগে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রীতি ম্যাচ। বুয়েনস এইরেসের লা বোমবোনেরোতে অনুষ্ঠিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে দলটি।
বিশ্বকাপের আগে স্কোয়াড যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এই ম্যাচে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন কোচ স্কালোনি। মোট আটজন বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়। এমনকি ম্যাচের ৭৪ মিনিটে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকেও তুলে নিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় হুয়ান মুসোকে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে সার্বিয়া নিশ্চিত হলেও অন্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।