চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে থাকলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরকে ঘিরে পর্তুগাল জাতীয় দলে গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি, এমনটাই মনে করেন দলের প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। বয়স ৪১ পেরোলেও অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড এখনও দলের অন্যতম স্তম্ভ বলেই মনে করছেন তিনি।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত এক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে রোনালদোকে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলতে গিয়ে এই চোটে পড়েন পর্তুগিজ তারকা।
তবে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না কোচ মার্টিনেজ। তার মতে, ইনজুরিটি গুরুতর নয় এবং দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন রোনালদো। বর্তমানে ক্লাব পর্যায়ে আলাদাভাবে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোনালদোর গুরুত্ব প্রসঙ্গে মার্টিনেজ বলেন, তিনি শুধু দলের অধিনায়ক নন, বরং এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করার যে তাড়না তার মধ্যে রয়েছে, সেটিই তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। একই সঙ্গে দলের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করতেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এখনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। সাম্প্রতিক ৩০ ম্যাচে ২৫টি গোল করেছেন তিনি। কোচের ভাষায়, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের পারফরম্যান্সই আসল বিবেচ্য, আর সেই মানদণ্ডে রোনালদো এখনও সবার ওপরে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপের আগে ঘানার ফুটবলে ঝড়, চাকরি গেলো কোচের
আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসংখ্যানও তার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী। ২০০৩ সালে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন রোনালদো।
আগামী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নিতে পারলে সেটিই হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড হয়ে থাকবে।
রোনালদোর অবসর নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে চান না কোচ মার্টিনেজ। তার মতে, এই তারকার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নিয়ে আগাম মন্তব্য করা কঠিন। কারণ তিনি সবসময় বর্তমানেই মনোযোগী এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বয়স ও চোট দুটোই সঙ্গী হলেও পর্তুগাল দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব এখনও অটুট। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে যা দলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর।