৬০ জনের বেশি ক্রিকেটারের উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর) বিসিবি প্রাঙ্গনে ১১ দফা দাবি জানিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। সাকিব, তামিম , মুশফিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে দাবি দাওয়া মেনে না নেয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলছেন না তারা।

ক্রিকেটারদের ১১ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি নাইমুর রহমান দুর্জয় এবার মুখ খুললেন। ক্রিকেট বিষয়ক বাংলাদেশের স্বনামধন্য এক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুর্জয় জানিয়েছেন অনেককে কিছুই। বিডিস্পোর্টসনিউজের পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটি হুবুহু তুলে দেয়া হলো।

প্রশ্নঃ তারা যে প্রথম প্রস্তাবটা রেখেছে, কোয়াব কোনো প্রকার সাহায্য করছে না? এই ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

দুর্জয়ঃ অফিসিয়াল কথা হলো কোয়াব ওদের কোনো দাবিটা বোর্ডের কাছে জানায়নি। ওরা নিয়ে আসছে, সেটার কোনটা আমরা বোর্ডকে বলি নাই বা পুশ করি নাই। সেটা বলুক আগে। ওরা নিজ থেকে আমাদের কাছে কিছু নিয়ে আসে নাই। আমরা যেটুকু করি, ওরা যেসব দাবি করেছে, সেগুলোর অনেকগুলোই যৌক্তিক। এর মধ্যে অনেকগুলোর প্রপোজাল বোর্ডের কাছে দেয়া আছে। কিছু ইমপ্লিমেন্টেড আর কিছু অন প্রসেস।

প্রশ্নঃ খেলোয়াড়দের বেতন বাড়ানোর দাবিতে কি কোয়াব সাহায্য করেছে?

দুর্জয়ঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা যে দাবিটা করেছিলাম ২৫ ভাগ বাড়ানো, হয়তো সেটা করেনি। কিন্তু এর ১০-১৫ শতাংশ ইতোমধ্যে হয়ে গিয়েছে। এরপর ওরা বিমানের দাবি করেছে। সর্বশেষ কর্ডিনেটর মিটিংয়েও আমি প্রস্তাব দিয়েছি যেসব জায়গায় এয়ারপোর্ট আছে, সেসব জায়গায় যেন বাই এয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। যদি প্রয়োজন হয় স্পন্সর হিসেবে এয়ারলাইন পার্টনার নিতে পারে ক্রিকেট বোর্ড।

প্রশ্নঃ বিপিএল-ডিপিএলে প্লেয়ারদের বৈষম্য ইস্যুটাকে কীভাবে দেখছেন?

দুর্জয়ঃ ওরা তো গত বছরের আগের বছর টাকাই পাচ্ছিলো না। কোয়াবই তো ওদের টাকা নিয়ে দিল। তারপর ডিপিএলে টাকা পাচ্ছিলো না, এই যে ব্রাদার্সের বিষয়ে পরশুদিনও আমি এবং দেবু সিইওর সঙ্গে কথা বলেছি। আকরাম ভাইকে বলেছি যেহেতু আপনি কাল চট্টগ্রাম আছেন, ওদের সঙ্গে আপনার দেখা হবে, আপনি যেন পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে কথা বলেন ওদের সঙ্গে। ওরা তো বলছে ওদের বলাচ্ছে।

প্রশ্নঃ আসলে কথাগুলো বলাচ্ছে কারা?

দুর্জয়ঃ কেউ তো আছে পেছনে। কারণ এমন একটা সময় বেছে নিল। সময়টাও ঠিক না, সঙ্গে ওরা আজ যে দাবিগুলো করলো, এগুলা তো বোর্ডের কাছে আগে দেবে, বোর্ড মানলো কি মানলো না তারপরে স্ট্রাইক করবে নাকি বয়কট করবে এগুলো তো পরের ব্যাপার তাই না? ওরা কিন্তু বোর্ডের কাছে বা কোয়াবের কাছে দাবি করে নাই।

প্রশ্নঃ ওরা কি অফিসিয়ালি বলেছে?

দুর্জয়ঃ আমরা কোয়াবের পক্ষ থেকে নিজস্ব উদ্যোগে এসব বারগিনিংয়ের মধ্যে আছি অলরেডি। কিন্তু ওরা কখনও বলে নাই। তারপর মোশাররফ রুবেলের চিকিৎসার জন্য বোর্ড থেকে প্রথমে পাঁচ লক্ষ এরপর দশ লক্ষ টাকা নিয়ে দিয়েছি। তারপর আমি নিজে ওকে পার্লামেন্ট সভায় নিয়ে গিয়েছি। সেখানে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি তাৎক্ষনিকভাবে ওকে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে দিয়েছি। এগুলো কি কোয়াবের কার্জক্রমের মধ্যে পড়ে না? এগুলো কার মাধ্যমে হলো? এই যে গত ডিপিএলের যে প্রসঙ্গটা তুললো যে, কোয়াবের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারিকে পদত্যাগ করতে হবে। এই নাঈম ইসলামও ওই ২২ জনের মধ্যে ছিল যাদের বিশেষভাবে বেতন বাড়ানো হয়েছে।

প্রশ্নঃ জহুরুল ইসলাম অমিকে কোয়াবের দায়িত্ব দেয়া হবে?

দুর্জয়ঃ সেটা হোক, কোয়াবের ইলেকশন হবে, সে প্রেসিডেন্ট হলে হবে। কিন্তু সংঘটনের তো গঠনতন্ত্র আছে তাই না? আমি রিজাইন করলাম, আমাকে বাদ দিয়ে ওরা ঘোষণা করলো, আর সভাপতি একজন হয়ে গেল। ওরা নতুন নেতৃত্ব চায় সেটা ঠিক আছে। আমাদের সঙ্গে আলাপ আলচনা করে নির্বাচনের তারিখ দিয়ে দেব। আমিও তো অনেক কিছু নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমি নিজেই তো পারি না। কয়েকজন খেলোয়াড়কে চাচ্ছি। এর মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের আমরা অলরেডি অফার করছি ৬-৭ মাস আগে। ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে প্রস্তাব দেয়া হয়, তোমরা দায়িত্ব নাও। তখন কিন্তু তারা দায়িত্ব নিতে চায় না। আপনারাই চালান, কিন্তু এখন কার ইন্ধনে বড় পর্যায়ে চলে গেল যে খেলাই বন্ধ করবে।

প্রশ্নঃ ক্রিকেটারদের এক্সপ্রেশন নিয়ে কিছু বলবেন?

দুর্জয়ঃ ওরা হয়তো মিসগাইডেড, ইনএক্সপেরিয়েন্স। ওরা ভুল করেছে। আমি ধরে নিচ্ছি এরকমই। কিংবা আমি মনে করি কেউ হয়তো ওদের পেছন থেকে মিসগাইড করে থাকতে পারে। সেটারও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ অনেকের ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমরা দেখতে পাচ্ছি। কোথায় যাচ্ছে ক্রিকেট? যাই হোক। এটা তো জানি কে কী করতে পারে।

প্রশ্নঃ সাকিবের রংপুরে যাওয়ার ব্যাপারে কি বলবেন?

দুর্জয়ঃ ইউ নেভার নো, আমার মনে হয় সাকিব একা না। আইকন যারা আছে সবার টাকা কমেছে বলে এখানে বোর্ড বা কোয়াব। ঠিক আছে, তারপরও তাদের দাবি থাকতে পারে। এরপরও অনেকেই আছে যাদের ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আমরা বলেছি, কোয়াব থেকে। ২৫ সতাংশ বাড়ায়নি, কিন্তু ১০-১৫ শতাংশ তো বেড়েছে। এই কমিশনটা কিন্তু হিসাব করেনি ওরা।

প্রশ্নঃ দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন তাহলে?

দুর্জয়ঃ আমার তো এখানে উল্টো পকেটের পয়সা খরচ হয়। আর কোয়াব করলাম তো অনেক দিন। নতুন কেউ আসবে করবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি ছেড়ে দিবো, কিন্তু কারও দাবিতে না। আরে ভাই কালকেই নিয়ে যাও। কিন্তু এটা একটা প্রসেসের মধ্যে হতে হবে। আর আমি এটা জাস্টিফাই করব। তোমরাও তাই করো, আসছো, বলছো। তোমাদের কোন কাজটা আমরা করি নাই। আর তোমরা না বলা সত্ত্বেও আমরা কোনটা কোনটা করেসি। সেটা আমি ক্লিয়ার করব আগে। আর তোমরাও প্রমাণ করো যে কোন কাজটা তোমাদের জন্য করা হয় নাই।

মন্তব্য: