ভারত সফরে চরমভাবে হেনস্তা হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক মাসের অবসর পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আবারো ব্যাস্ততা শুরু হবে টাইগারদের। তামিম, মুশফিক মাহমুদউল্লাহরা পাকিস্তানের মাটিতে ২টি টেস্ট এবং ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে জানুয়ারিতে দেশ ছাড়বে।

এরপর মার্চে জিম্বাবুয়ে আসবে বাংলাদেশ সফরে। ১টি টেস্ট এবং ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা টাইগারদের বিপক্ষে। তারপর মে মাসে ১টি টেস্ট ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি-টোয়েন্টি খেলতে আয়ারল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ দল।

পরের মাসেই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশের মাটিতে দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ আসবে। এরপর অগাস্টে ৩টি টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে টাইগাররা।

সেপ্টেম্বরে ২টি টেস্ট খেলতে নিউজিল্যান্ড আসবে বাংলাদেশে। একই মাসে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালাই করতে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। ডিসেম্বরে ৩টি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করবে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের ২০২০ সালের ক্রিকেট সূচিঃ

জানুয়ারিঃ বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর (২টি টেস্ট, ৩ টি-টোয়েন্টি)

মার্চঃ জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর (একটি টেস্ট, ৫ টি টোয়েন্টি)

মেঃ বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর (একটি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে, ৩ টি-টোয়েন্টি)

জুনঃ অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর (২টি টেস্ট)

অগাস্টঃ বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর (৩টি টেস্ট)

সেপ্টেম্বরঃ নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর (২টি টেস্ট)

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরঃ এশিয়া কাপ

অক্টোবরঃ অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর (৩ টি-টোয়েন্টি)

অক্টোবরঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ডিসেম্বরঃ শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ সফর (৩টি ওয়ানডে)

আরও পড়ুনঃ ২০১৯ সালে টাইগারদের প্রাপ্তি ও লজ্জার পরিসংখ্যান

পরাজয় দিয়ে ২০১৯ সালের সমাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের। ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক দ্বিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচে শোচনীয় ভাবে হেরেই বছরের শেষটা করেছে টাইগাররা।

সব মিলিয়ে এই বছর বাংলাদেশ দল ৫টি টেস্ট ম্যাচ এবং ১৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে সাতটি। তা ২০১৯ সালের পুরোটা সময়ে বাংলাদেশের পারফর্মেন্স কেমন ছিল চলুন দেখে আসা যাক।

২০১৯ সালে টেস্ট বাংলাদেশের জন্য এক হতাশার নাম। এই বছরে কোন জয়ই পায়নি তারা। পাঁচটি টেস্ট ম্যাচের পাঁচটিতেই হতাশ হতে হয়েছে টাইগারদের। এর মধ্যে আছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হারের সবচেয়ে বড় লজ্জা।

২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষের টেস্টটিই দেশের মাটিতে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট। আর বাকি চারটি ম্যাচ ছিল নিউজিল্যান্ড ও ভারতে। দুই জায়গাতেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো দেশের বাইরে খেলা প্রতিটি টেস্টেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিতেছে ইনিংস ব্যাবধানে। অর্থাৎ দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠেই নামার দরকার পড়েনি তাদের।

ওয়ানডে ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়ে বছর শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর আয়ারল্যান্ডে আয়োজিত আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে জয় লাভ করে বাংলাদেশ।

এরপর বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয় লাভ করে টাইগাররা। তারপর বিশ্বকাপেই হারায় ক্যারিবিয় ও আফগানদের। জয়ের আশা জাগিয়েও হেরে যায় দুটি ম্যাচ। হতাশায় ভরা বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে।

এরপর টাইগাররা যায় শ্রীলঙ্কাতে। সেখানে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়। অর্থাৎ ওয়ানডেতে বছরের শুরুটা যেমন হয়েছিল হোয়াইটওয়াশ দিয়ে, শেষটাও হোয়াইটওয়াশ দিয়েই।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল নিজেদের মাটিতে। সেখানে তিনটি ম্যাচে জয় পায় তারা। ফাইনাল পরিত্যক্ত হওয়ায় শিরোপা ভাগ করে নিতে হয়। সব শেষে ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একটিতে জয় পায় টাইগাররা। হারে বাকি দুটিতে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভালো করার বদলে ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কয়েক বছর ধরে আশার আলো দেখানো বাংলাদেশ দলের ২০১৯ সাল কেটেছে সেই ২০০৪-০৫ সালগুলোতে যেমন কাটতো তেমন।

মন্তব্য: