আগামী ৩ বছরের মধ্যে পূর্বাচলে অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানানোর কথা জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এছাড়াও জানালেন সংবাদ মাধ্যমে কোনো কথা বললে তা ভিন্ন ভাবে উপস্থাপনের ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে সে ব্যাপারে।

অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে রাজধানীর পূর্বাচলে বিশাল এক স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা। তবে তা এতদিন শুধুমাত্র ক্রিকেট প্রিয় মানুষগুলোর আলোচনাতেই ছিল। কিন্তু এবার বুঝি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সে আলোচনার বিষয়বস্তু শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম। বিসিবি সভাপতি পাপন জানালেন আগামী তিন বছরের মধ্যেই অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে চান তারা।

আজ দুপুরে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়ে বোর্ড মিটিং শেষে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, ৩৭.৪৯ একর জমি আমরা পেয়েছি। ১০ লাখ টাকায়। এবং সেই জন্য আমরা বোর্ড মিটিংয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা ঠিক করেছি এটির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করব ডিজাইন এবং পরামর্শের জন্য। আগামী তিন বছরের মধ্যে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে চাই। পুরোটা করবে বিসিবি। সব খরচ আমরাই করব। দেখার মতো হবে। দর্শক ধারণ ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ হাজার কিন্তু আমরা এর চেয়ে বেশি করবো বলে আশা প্রকাশ করছি। স্টেডিয়ামের সঙ্গে একাডেমি থেকে শুরু করে ইনডোর, সুইমিং পুল, জিমনেশিয়াম যা যা লাগে সব থাকবে। সঙ্গে পাঁচ তারকা মানের একটা হোটেলও ওখানে চাচ্ছি। আগে স্টেডিয়াম নিয়ে কাজ করব।’

সংবাদ মাধ্যমে কথা বলা নিয়ে বিসিবি সভাপতির উপলব্ধি

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ভীষণ সংবাদমাধ্যম-বান্ধব মানুষ। সংবাদমাধ্যমে শুরু থেকেই তিনি যে কভারেজ পান তা বাংলাদেশের অন্য খেলাগুলোর সভাপতি তো দূরের কথা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের কোনো একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পান কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে! কিন্তু সমস্যা হলো তাঁর অনেকগুলি মন্তব্যই বিতর্কের সূত্রপাত করে। যেমন অতি সম্প্রতি সাব্বিরের নিষিদ্ধ থাকার পরও দলে অন্তর্ভুক্তি বা ইমরুলের দলে থাকা না থাকা নিয়ে তাঁর বক্তব্যও এর ব্যাতিক্রম হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মুখ হিসেবে তার বলা প্রতিটি বাক্যই তো এক একটি খবর; আর সে খবরে যদি থাকে অন্যরকম কোনো গন্ধ তাহলে সাংবাদিকরাতো তা লুফে নেবেই আর তারপরই শুরু হয় ক্রিকেট সম্পর্কিত সব মানুষের মনেই বিভ্রান্তি। সম্প্রতি সভাপতি সাহেব এই বিষয়টি নজরদারি করেছেন এবং তার মাঝে যে উপলব্ধি এসেছে তা হলো; এখন থেকে সংবাদমাধ্যকে কথা বলা কমিয়ে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি বলেন, ‘সেদিন খবর প্রকাশ হলো, ইমরুলকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে। এবং আমি নাকি এটা নিশ্চিত করেছি। আমার কাছে এখনো নামই আসেনি, কীভাবে নিশ্চিত করব? পর পর দুই ঘটনায় মনে হয়েছে আপনাদের (সংবাদমাধ্যম) সঙ্গে কথা বলায় সীমাবদ্ধতা আনা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই।… অনেক সময় দিয়ে দেয় (ভুল খবর)। বলার পর ঠিক করা হয়। যখন ঠিক করা হয় তখন তো রাগ হতেই পারে। যা হওয়ার তো হয়েই গেল। মাঝখান থেকে ইমরুলের এখন বাদ পড়ার সম্ভাবনা। কার লাভ হলো এতে?’

কিছুদিনের মধ্যেই আইসিসি প্রেসিডেন্ট শশাঙ্ক মনোহর বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছে বিসিবি। বিসিবি তাকে সংবর্ধনা জানাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে মিটিংয়ে।

মন্তব্য: