বিপিএল ষষ্ঠ আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটির শিরোপ জয়ের পিছনে ফাইনালে ১৪১ রানের ঝনমলে ইনিংস খেলে জয়ের পথটা মসৃণ করেছিলেন তামিম ইকবাল। তিনিই ছিলেন গেল আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে আসরের শুরুতে তামিমের ব্যাটে ছিল না সেই ধার। এছাড়া আসরের শুরুতেই দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে জলঘোলা হয়। যা তামিমের পারফরম্যান্সের উপর প্রভার ফেলছিল। জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবপোর্টাল ‘ক্রিকবাজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ক্রিকবাজকে বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় ছিলো যা, সকলের সামনে আলোচনা করা যাবে না। গত ছয়-মাস ধরে আমি ও তামিম আমাদের স্কোয়াড নির্বাচন করার জন্য পরিকল্পনা করেছি। দুই জনে মিলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল গড়েছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যা ঘটেছে তা পুরোপুরি ন্যাক্কারজনক। বিষয়টি তখন সামনে আসলে, আমাদের দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়তো’।

সালাউদ্দিনের কথার একটি অংশে তিনি জানিয়েছেন স্মিথকে বিপিএল খেলতে আনার পিছনে গুরু দায়িত্বটা পালন করেছেন তামিম ইকবাল। মূলত তিনিই স্মিথের সঙ্গে কুমিল্লা ফ্রাঞ্চাইজির যোগাযোগসহ সবটাই দেখেছেন। শুরু থেকে কুমিল্লার সবাই জানতেন তামিমই হচ্ছেন তাঁদের অধিনায়ক। তামিম যে অধিনায়ক হচ্ছেন না সেটা তামিম জানতে পারেন স্মিথের এজেন্টের কাছ থেকে!

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘স্টিভ স্মিথের সাথে যোগাযোগ করতে তামিমই আমাদের সাহায্য করেছে। স্মিথকে বাংলাদেশে আনতে ঐ সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। শুরুতে আমরা সবাই জানতাম তামিমই আমাদের অধিনায়ক। আমরা সেভাবেই আমাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলাম। স্টিভ স্মিথের এজেন্টের কাছ থেকে তামিম জানতে পারে যে স্মিথকে অধিনায়ক করা হয়েছে। এটা তামিমের জন্য প্রচন্ড এক ধাক্কা ছিল। তাঁর হতাশ হবার যথেষ্ট কারণ ছিলো। একটা প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড গড়তে ঘাম ঝরানোর পর হুট করে এমন হওয়াটা অস্বাভাবিক বটে।’

সালাহউদ্দিন খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রিয় শিষ্য তামিম ইকবালকে। তাই খুব ভালো করেই জানেন অধিনায়কত্ব না পাওয়া তামিমকে খুব বেশি বিচলিত করবে না। এমনকি স্মিথকে অধিনায়ক করার কথা কোচকে ভাবতে বলেছিলেন তামিম। অথচ হুট করে কাউকে না জানিয়ে স্মিথকে অধিনায়ক করাতে ব্যাপারটা হতশ্রী হয়ে যায়।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হবার আগ অব্দি স্মিথও জানতো তামিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক হবেন। এমনকি স্মিথ তামিমকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সে কি নেতৃত্ব দেবে? সত্যি কথা বলতে অধিনায়কত্বের জন্য ঘুম হারাম করার মতো ছেলে তামিম না। স্মিথ দেশে আসার পর তামিম আমাকে চিন্তা করতে বলেছিল স্মিথকে অধিনায়ক করার ব্যাপারে। কিন্তু টুর্নামেন্টের ঠিক আগে হুট করে স্মিথকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তে গোটা ব্যাপারটা হতশ্রী হয়ে যায়। আমি এখনো বিশ্বাস করি আমরা যদি ব্যাপারটা ভালভাবে সামলাতে পারতাম তাহলে আমরা আরো গোছানো সাজঘর পেতে পারতাম।’

বিপিএলের শুরুতে তামিম ইকবালের পারফরম্যান্স ঠিক তামিম সুলভ ছিলো না। সালাহউদ্দিন মনে করেন এসব নাটকীয় ব্যাপারের জন্যই এমনটি হয়েছে। তবে এতসব ভুলে তামিম দেখিয়েছেন সত্যিকারের পেশাদারিত্ব।

‘আমি মনে করি টুর্নামেন্টের শুরুতে তামিমের পড়তি পারফরম্যান্সের জন্য এটি অন্যতম কারণ। এমনটা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই হতে পারতো। ভাগ্য ভাল তেমনটা হয়নি। এতোকিছু হবার পরেও দলের প্রতি তামিম যে উৎসর্জন দেখিয়েছেন তা তামিমের দিক থেকে বড় ত্যাগ। যা কিছু হয়েছে তা যে কারো অহং এ আঘাত করতো, কিন্তু সে এটা কাটিয়ে উঠে দলের জন্য সদয় হয়ে সত্যিকারের পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। যত সময় গিয়েছে সে তাঁর ভেতরের কষ্ট ভুলে সামনে এসেছে। সে মাঠের মধ্যে তাঁর পরামর্শ ইমরুলের সাথে ভাগ করেছেন।’

স্মিথ চলে যাওয়ার পর তামিমের অধিনায়কত্ব না করার কারণও ব্যাখ্যা দেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ‘অভিমান থেকে তামিম আর কুমিল্লার অধিনায়কত্ব করেনি। আমি মনে করি তামিমের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো। তার জায়গায় যে কেউ ঠিক এই কাজটি করতো। এই কারণে আমরা ইমরুলকে অধিনায়ক করি। টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, তামিম তাঁর ভেতরের যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠেছে এবং ইমরুলের সঙ্গে পরামর্শ করে মাঠে ভালো ফলাফল এনেছে।’

মন্তব্য: