ফ্রাঞ্জাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন অনেক ক্রিকেটার। যার মূল কারণ হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ প্রাপ্তি। প্রতি বছর এই লিগে দুই হাত ভরে অর্থ কামান অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। তবে এই আইপিএল খেলতে না পেরেই এবার আদালতের শরণাপন্ন হলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মির্চেল স্টার্ক। এমনকি মামলাই করে বসলেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের আপত্তির কারণে চলতি আইপিএলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না ফিঞ্চরা। তাই দল পেয়েও পকেটটা বাড়তি টাকাটা ঢোকেনি তাদের। এদিকে আইপিএল একাদশ আসরে অংশ নিতে পারেননি চড়া দামে ১৮ লাখ ইউএস ডলারে(১৫ কোটি টাকার বেশি) কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে জায়গা পাওয়া স্টার্ক।

সেবার অবশ্য বোর্ডের তরফ থেকে কোনো বিধি নিষেধ না থাকলেও ইনজুরিতে কপাল পুড়েছিল স্টার্কের। ফেব্রুয়ারিতে সে সময় আফ্রিকা সফরের ছিল অস্ট্রেলিয়ার দল। সেই সফরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঊরুর পেশিতে ব্যথা পেয়েছিলেন স্টার্ক। আর তৃতীয় টেস্টে ডান টিবিয়াল হাড়ই ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। ফলে আইপিএলেই খেলা হয়নি তাঁর।

তবে ইনজুরির হবার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলারের বিমা করিয়েছিলেন তিনি। সে চুক্তির শর্ত ছিল, যদি চোটের কারণে আইপিএল খেলতে না পারেন স্টার্ক, তবে তাঁকে এই অর্থ দেবে বিমা প্রতিষ্ঠান। সে চুক্তি অনুযায়ীই স্টার্কের আইনজীবী মিলস ওকলি লন্ডনের লয়েড সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন। লন্ডনের এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান করতে রাজি নয় এমন বিশেষ ধরনের বিমা করার জন্য বিখ্যাত।

মামলার রিটে বলা হয়েছে, স্টার্ক ফেব্রুয়ারি ২৭ থেকে মার্চ ৩১-এর জন্য ৯৭ হাজার ৯২০ ডলার প্রিমিয়াম দিয়েছিলেন। স্টার্কের দাবি, মার্চ ১০ তারিখেই তিনি ডান ঊরুতে ব্যথা অনুভব করেছেন, ‘ক্ষয়ে যাওয়া উইকেটে অসমান ফুটওয়ার্কে বল করে বাদী ডান ঊরুতে হঠাৎ ব্যথা পেয়েছেন। এরপরের বোলিং সেশন ও পরের টেস্টে সে ব্যথা আরও বেড়েছে। এর ফলে বাদী চতুর্থ টেস্ট খেলতে পারেননি।’

চুক্তির আগে স্টার্ককে বিমা প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল দল পরীক্ষা করেছিল এবং তাঁর আগের চোটগুলোও হিসাবে রাখা হয়েছিল। সেটাকেই এখন ঢাল বানাতে চাইছে বিমা প্রতিষ্ঠান। রিটে বলা হয়েছে, ‘বাদীর দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে, যার ফলে ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিবাদীর পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত জবাব পাওয়া গেছে। সেই ই-মেইলে বলা হয়েছে, বিবাদী মনে করে অক্ষমতাজনিত অর্থ পাওয়ার দাবি রাখে না বাদী।’

মন্তব্য: