বর্ণময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ। সোমবার মুম্বাইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমস্ত ফর্ম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন তিনি।

ভারতের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে যুবরাজের অবদান অনেক। তাকে ছাড়া হয়তো ২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা হয়তো সম্ভব হতো না মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের। ২০০৭ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার।

২০০০-র সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আর কখনও পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। দীর্ঘদিন ভারতের একদিনের দলের মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ভারতীয় দলের হয়ে ৩০৮ একদিনের ম্যাচ খেলেছেন যুবরাজ। ৩৬.৫৫ গড়ে ৫২ হাফসেঞ্চুরি ও ১৪ সেঞ্চুরি সহ মোট ৮৭০১ রান করেছেন। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর সর্বাধিক ইনিংস ১৫০। বল হাতে একদিনের ম্যাচে ভারতের হয়ে ১১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে ভালো বোলিং ৩১ রানে ৫ উইকেট।

৪০ টি টেস্ট খেলেছেন যুবরাজ। ৩৩.৯২ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ১৯০০ রান। টেস্টে তাঁর রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরি ও ১১ হাফসেঞ্চুরি।

ভারতের হয়ে ৫৮ টি টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন যুবরাজ। টি ২০ তে মোট ১১৭৭ রান করেছেন তিনি। আটবার ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। টি ২০ আন্তর্জাতিকে সবচেয়ে দ্রুত অর্ধশতরানের রেকর্ড রয়েছে তাঁর। ২০০৭-এর টি ২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১২ বলে অর্ধশতরান করার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর দখলে। ওই ম্যাচেই ব্রডকে ছয় বলে ছয়টি ছয় মেরেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো একমাত্র ব্যাটসম্যান হলেন ক্যান্সারজয়ী যুবরাজ!

অসবরের ঘোষণা দিতে গিয়ে যুবরাজ বলেছেন, ২৫ বছর পর আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ক্রিকেট আমাকে সবকিছুই দিয়েছে। ক্রিকেটের জন্যই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।

৩৭ বছরের যুবরাজ বলেছেন, ভারতের হয়ে প্রায় ৪০০ ম্যাচ খেলতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। ক্রিকেট খেলা শুরুর সময় এতটা পথ অতিক্রমের কথা কল্পনাও করিনি।

মন্তব্য: