বিশ্বকাপের আসর শুরু হবে আগামী মে মাসের ৩০ তারিখে। খুব একটা সময় নেই আর। বিশ্বকাপের দলগুলোতে চলছে ঘামঝরানো অনুশীলন। সাথে আছে বুক ভরা স্বপ্ন।

স্বপ্নের কমতি নেই বাংলাদেশ দলের টাইগারদের মাঝেও। সর্ব চেষ্টা করে হলেও তারাও চাইছে বিশ্বকাপটা বাগিয়ে আনতে। আজকের দিন নিয়ে চারদিন হলো বিশ্বকাপ ট্রেনিং ক্যাম্পে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শুরু হওয়ার। তবে নানা দিক বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ স্টিভ রোডস প্রচন্ড আশাবাদী বাংলাদেশ দল নিয়ে।

আজ অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় কিছু আশার বাণী তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘যদি সত্যি কথা বলি, বেশ কয়েকটি ভালো দল এবারের বিশ্বকাপে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ভালো খেলাটা কঠিন হবে। তবে আমি বেশ কয়েকটি দেশকেই জানি যারা বাংলাদেশকে সমীহ করে। তারা জানে, যত ভালোই তারা খেলুক না কেন তাদের হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে।’

তবে তার কথার প্রেক্ষাপট শুনে বোঝা যায় যে, তিনি যেটা বলেছেন সেটা খুব একটা অযৌক্তিকও নয়। নিকট অতীত থেকে দেখেছেন, ইংলিশ কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনাল খেলেছে মাশরাফির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। কম যায়নি গেল বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও। তাদের মাঠেই ক্যারিবিয়ানদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিয়ে সিরিজ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা। কাজেই আস্থা হারানোর কোনো কারণই টাইগার কোচের কাছে নেই।

রোডস জানালেন, ‘সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমি এখানে আসার আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আমরা গোটা কয়েক জয় পেয়েছি। আমরা এমন একটি দল যারা শীর্ষ দলগুলোকে হারাতে সক্ষম।’

তবে সেই জয়গুলো এখন শুধুই অতীত। যা মনে করে হয়তো আত্মপ্রসাদ লাভ করা যায়, তৃপ্তির ঢেকুরও তোলা যায়। তাই বলে বিশ্বকাপের মতো আসরে নির্ভার তো আর থাকার উপায় নেই। তাই বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে শিষ্যদের সেরা লড়াইয়ের পরামর্শ দিয়ে রাখলেন এই টাইগার হেড কোচ, ‘আমাদের সেরা খেলাটিই খেলতে হবে। সেটাই হবে আমার বার্তা। আমরা যদি সত্যিই দূরে যেতে চাই, নক আউটে খেলতে চাই তাহলে আমাদের নিশ্চয়ই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

তবে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত মাশরাফিরাও। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। হয়ত নিজেদের প্রমাণ করে আবারো একটি চমকই দেখাবে টাইগাররা।

মন্তব্য: