BDSports News,মুশফিক,অর্জন,৫ হাজার

ছবিঃ মুশফিক



যখনই দরকার ঠিক তখনই যেন দলের হয়ে জেগে ওঠেন তিনি।তারই ধারাবাহিকতাই পাওয়া গেলো গত ম্যাচে,ঠিক মাথা নাড়া দিয়ে জানান দিলেন। ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার এ মিডলঅর্ডার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান চরম বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে। রবিবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আরেকবার তার ওপরই আস্থা রাখতে হয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছিলেন ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে। কিন্তু ৩৩ রান করার পর দুর্ভাগ্যের শিকার। রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়েছিলেন। এই ক্ষুদ্র ইনিংস খেলার পথে একটি দারুণ অর্জনের মালিক হয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।

এবার এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের বেহাল দশা ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু বরাবরের মতো মুশফিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে। পাঁজরের ইনজুরি নিয়েও সেদিন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। ১৫০ বলে করেন ১১ চার, ৪ ছক্কায় ১৪৪ রান। আর তাতেই লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় দল। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির এই ইনিংসের সুবাদে ৫ হাজার ওয়ানডে রানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান মুশফিক। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনি ছিলেন না। আর বাংলাদেশ দলও বিপর্যয় সামলাতে পারেনি এবং ১৩৬ রানের লজ্জাজনক ব্যবধানে পরাস্ত হয়। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ২১ রান করেছিলেন, এবারও দল পরাজিত হয় বড় ব্যবধানে (৭ উইকেটে)। চলতি এশিয়া কাপে যেন মুশফিকই একমাত্র ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন দলকে উদ্ধার করার। রবিবার একই পরিস্থিতিতে উইকেটে আসেন মুশফিক। ৫ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ৭ রান দূরে ছিলেন। আর দল তখন ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদের মুখে। সে সময় ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গে ৬৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন মুশফিক। ইনিংসের ১১তম ওভারে গুলবাদিন নায়েবকে চার হাঁকিয়ে ৫ হাজার ওয়ানডে রানের মাইলফলক পেরিয়ে যান মুশফিক। ১৯০তম ম্যাচের ১৭৬ নম্বর ইনিংসে তিনি এই মাইলফলক অর্জন করলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বপ্রথম ৫ হাজার রান স্পর্শ করেছিলেন ওপেনার তামিম। বর্তমানে ৬৩০৭ রান করে তিনিই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক রানের মালিক। এরপর সাকিবও ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বর্তমানে তার রান ৫৪৮২। এবার তাদের কাতারে যোগ হয়েছেন মুশফিক। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ৮৪তম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করার গৌরব দেখালেন। ৫ হাজার রান পেরিয়ে যাওয়ার পরের ওভারেই অবশ্য স্লিপে একটি ক্যাচ তুলে দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন মুশফিক। ভুল সেই একটিই করেছিলেন। এরপর দুর্দান্ত কিছু শট খেলে দলের বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে রংয়ের ছোঁয়া এনে দেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় ভুল করেন ২১তম ওভারে। ননস্ট্রাইকিংয়ে থাকা মুশফিক রান নিতে বের হয়ে যান এবং রানআউটের শিকার হন। এর আগে ৫২ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ৩৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। নিজেকে মিডলঅর্ডারের স্তম্ভ হিসেবে বাংলাদেশ দলের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ উপাধি আগেই পেয়েছিলেন। তবে ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে নিজেকে আরও ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। গত ৩ বছরে তিনি ৪৭ গড় ও ৯১ স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন। এই সময়ে তারচেয়ে শুধু এগিয়ে ৫৭ গড়ে ৭৯.৩৭ স্ট্রাইকরেটে রান করা তামিম। তামিম-মুশফিক দু’জনই ব্যর্থ হলে ম্যাচ জেতার রেকর্ড মাত্র একটিই বাংলাদেশের।



মন্তব্য: