শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা। মসজিদে সে সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন পারফর্ম্যান্স বিশ্লেষক শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখর। তাই ঘটনাটিকে অত্যান্ত কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেই পরিস্থিতে থেকে রেরি হওয়ার পর নিজ মুখে সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন সাংবাদিকদের কাছে।

শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখর বলেন, মসজিদটি থেকে আমরা মাত্র ৪০ গজ দূরে অবস্থান করছিলাম। সবে বাস থেকে নেমেছি। হঠাৎ গুলির শব্দ পাই। ক্রিকেটাররা কিংবা আমি কেউই প্রথমে ঠাওর করতে পারিনি সেখানে কি হচ্ছে। আচমকা একজন নারী রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আমরা ভাবছিলাম, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে মেডিকেলে নিতে হবে। ছেলেদের অনেকে উনাকে সাহায্য করতে চাইছিল। তবে এরপর বুঝতে পারি, এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।

ভারতীয় এ অ্যানালিস্ট বলেন, পরে দেখলাম জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালাচ্ছেন মানুষজন। চারিদিকে রক্তের ছড়াছড়ি। এ পরিস্থিতিতে সেই পথচারী নারীর জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি আমাদের সামনে পা না বাড়াতে নিষেধ করলেন। বাসে উঠে ফ্লোরে চুপচাপ শুয়ে থাকতে বললেন। তার কথামতো আমরা শুয়ে পড়লাম। তবে ঠিক কত মিনিট আমরা বাসের মেঝেতে শুয়ে ছিলাম তা বলতে পারছি না। পরে সবাই শান্তভাবে যা বলছিল, তাই করছিলাম।

নৃশংস এ ঘটনার বর্ণনায় তিনি আরও বলেন, ওই সময় অনেকে আমাদের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন। তবে প্রাথমিকভাবে তেমন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারিনি। আসলে এ ধরণের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আপনার ব্রেন আপনাআপনিই জমে যাবে। কারণ আপনি আতঙ্কিত থাকবেন। সেটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে হয়েছে। একরকম সেই পথচারী নারীর কল্যাণেই বেঁচে যান তামিমরা।

মন্তব্য: