দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ওয়ানডে ক্রিকেটার রাইলি রুশো এবারের বিপিএল আসরে শুরু থেকেই গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের শীর্ষ স্থানটি যেন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তবে কিছুদিন আগে পর্যন্ত মুশফিক বাদে সেরা ৫ রান সংগ্রহকারীদের মধ্যে অন্য কোনো দেশি ক্রিকেটারের নাম দেখা না গেলেও প্লে-অফের আগে অন্য তিন বিদেশির সাথে তামিম ও মুশফিকের নাম দেখা যাচ্ছে।

আসুন দেখে নিই বিপিএল ষষ্ঠ আসরে প্লে-অফ পর্ব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত সেরা ৫ ব্যাটসম্যানের নাম, মোট রান ও সেঞ্চুরি-হাফ সেঞ্চুরি সংখ্যা।

১. রাইলি রুশো: বিপিএলের ষষ্ঠ আসর জুড়েই অসাধারণ খেলা রংপুরের ব্যাটসম্যান রাইলি রুশোর মোট সংগ্রহ ৫১৪ রান। কুমিল্লার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অল্প রানের টার্গেট গেইল আর ডি ভিলিয়ার্স মিলে পূরণ করে ফেললে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি রুশোকে আর তাই ১২ ম্যাচ খেলে ১১ ইনিংসে ব্যাট করেছেন তিনি। এই ১১ ইনিংসে ব্যাট করে একটি শতক ও পাঁচটি অর্ধশতক এসেছে রুশোর ব্যাট থেকে। অবশ্য একবার শূন্য রানেও আউট হয়েছেন তিনি।

২. মুশফিকুর রহিম: সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম এবং ২ জন দেশি ব্যাটসম্যানের মধ্যে তার অবস্থান উপরে। ১২ ম্যাচে ব্যাট করে তার মোট রান সংগ্রহ ৪১৮। তিনটি অর্ধশতক করেছেন মুশফিক এবং ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিন ম্যাচে।

৩. নিকোলাস পুরান: পুরানের দল সিলেট সিক্সার্স গ্রুপ পর্বে থেকে বাদ পড়ায় এই আসরে আর ব্যাট হাতে দেখা যাবে না তাকে। তবে ১২ ম্যাচের মধ্যে শেষ ম্যাচ না খেলায় ১১ ম্যাচ খেলে ১১ ইনিংসে ব্যাটিং করে পুরানের মোট সংগ্রহ ৩৭৯ রান। তিন ম্যাচে অর্ধশতক করা পুরান এই আসরের সর্বোচ্চ ২৮ টি ছয় হাঁকিয়েছেন।

৪. লরি ইভান্স: রাজশাহী কিংস আসর থেকে বাদ পড়লেও ইভান্স তার নিজের ছাপ রেখে গেছেন এই বিপিএলে। কারণ ঢিমিয়ে পড়া আসরকে রঙিন করেছিল তার সেঞ্চুরিই। এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটি আসে ইভান্সের ব্যাট থেকেই এবং সাথে দুইটি হাফ সেঞ্চুরিও করেন তিনি। ১১ ম্যাচে ইভান্স মোট ৩৩৯ রান সংগ্রহ করে প্লে অফের আগে নিজেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রেখে গেছেন।

৫. তামিম ইকবাল: বিপিএল শুরু হওয়ার আগে থেকেই সবাই জানে তামিম ইকবাল এবারের বিপিএল চার ছক্কায় ভাসিয়ে দিবেন। কিন্তু পরিস্থিতি দেখা গেলো ঠিক উল্টো। এমনকি পুরো ক্রিকেট জীবনে কোনো নির্দিষ্ট এক সিরিজে যা করেননি তাই করে বসলেন তিনি। পর পর ২ ম্যাচে ০ (শূন্য) রানে আউট হলেন। কিন্তু কয়েক ম্যাচ পরেই নিজের আসল রূপে ফিরে আসলেন তামিম; যেন তার ধ্যান ভেঙেছে। এই আসরের সিলেট পর্ব থেকে ধারাবাহিক ভাবে রান পেয়েছেন তামিম। ১২ ম্যাচে দুটি অর্ধশতক সহ তার মোট সংগ্রহ ৩০৯ রান। তবে শূন্য রানেও আউট হয়েছেন তিনবার।

মন্তব্য: