শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসায় অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৫ রানে হারালো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাট করা ভারতকে ১০৬ রানে আটকে ফেললেও ১০১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশের যুবারা।

ভারতের ১০৭ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলীয় ১৬ রানের মধ্যেই ফিরে গেছেন প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যান। ওপেনার তানজিদ হাসান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। অন্য ওপেনার পারভেজ হোসেন করেন ৫ রান। শুরুর ধাক্কা সামলাতে আসা মাহমুদুল হাসান জয় ও তৈহিদ হৃদয় ব্যর্থ হন। ওপেনার পারভেজের উইকেটটি নেন পাটিল। এছাড়া বাকি তিনটি উইকেট নেন ভারতীয় পেসার আকাশ সিং।

পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশ দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন শাহদাত হোসেন ও আকতার আলী। এই জুটিতে ৩০ বল থেকে ২৪ রান তোলার পর ৩ রান করা শাহাদাতকে ফিরিয়ে দেন আনকোলেকর।

দলীয় ৫১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এ সময় শামীন হোসেন ৭ রানে ফিরে যান। এরপর বাংলাদেশকে মৃত্যুঞ্জয় ও আকবর আলীর জুটি খেলায় ফেরায়। এই জুটিতে ২৭ রান তোলার পর বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এসময় ১৯.৪ ওভারে ৭৭ রান তুলে বৃষ্টি আইনে এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ।

বৃষ্টি বিরতির পর মৃত্যুঞ্জয় ও আকবর স্কোরকার্ডে ১ রান যোগ করতেই দুজনেই আউট হয়ে যান। আকবর ৩৬ বল থেকে ২৩ ও মৃত্যুঞ্জয় ২৬ বল থেকে ২১ রান করেন।

নবম উইকেটে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সাকিব ও রকিবুল হাসান। তারা দুজনে দলীয় স্কোরকে তিন অঙ্কে পৌঁছে দেন। এই জুটি ভারতীয় শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু দলীয় ১০১ রানের সময় আনকোলেকর বাংলাদেশের শেষ দুইটি উইকেট তুলে নেন। ৩৩তম ওভারে প্রথমে সাকিব ১২ ও একাদশ ব্যাটসম্যান শাহীন আলক শূন্য হাতে ফিরে এলে তীরে এসে তরী ডোবে বাংলাদেশের।

ভারতের হয়ে বল হাতে আনকোলেকর নেন ২৮ রানে ৫টি উইকেট। এছাড়া আকাশ সিং নেন ৩টি উইকেট। পাটিল ও মিশ্রা ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীলঙ্কার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং নেয় ভারতীয় দল। তবে বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে এদিন শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলীয় ৮ রানেই হারিয়ে বসে তিন উইকেট। মাঝে অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল (৩৩) ও শাশাওয়াত রাওয়াত (১৯) কিছুটা চেষ্টা করলেও শামীম হোসেনের ঘূর্ণিতে আর পেরে ওঠেননি।

৮৪ রানে ৯ উইকেট হারানো ভারত শেষ উইকেট জুটিতে ২২ রান করে। দলের রান ১০০ ছাড়িয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখেন কারান লাল। দলীয় সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৩৭ রানে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে আউট হন।

বাংলাদেশের সেরা বোলার স্পিনার শামীম ছয় ওভারে দুই মেডেনে আট রানে তিন উইকেট নেন । মৃত্যুঞ্জয়ের পকেটেও গেছে তিন উইকেট। ৭.৪ ওভারে ১৮ রানে তিন উইকেট নেন তিনি। এছাড়া তানজিম ও শাহীন আলম একটি করে উইকেট নেন।

মন্তব্য: