শনিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড-পাকিস্তান। উইকেটরক্ষক জশ বাটলারের ৫৫ বলে অপরাজিত ১১০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে ৩৭৩ রানের বড় স্কোর পায় ইংল্যান্ড। জবাবে পাকিস্তানের ফখর জামানের ১০৬ বলে ১৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস সত্বেও ১২ রানের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত হয়েছিল।

সাউদাম্পটনে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো ১৯ ওভারে ১১৫ রানের জুটি গড়েন। ৪৫ বলে ৫১ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বেয়ারস্টো।

আরেক ওপেনার জেসন রয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৭ রানে থেমে যান। ৯৮ বল মোকাবেলায় ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা হাকিয়ে হাসান আলীর বলে ইমাদ ওয়াসিমের ক্যাচে পরিনত হন তিনি।

দুই ওপেনার হাফ-সেঞ্চুরি পেলে তিন নম্বরে নামা জো রুট (৪০) শিকার হন স্পিনার ইয়াসির শাহর। ইনিংসের ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে তৃতীয় ব্যাটসম্য্যান হিসেবে দলীয় ২১১ রানে আউট হন রুট।

এরপর পাকিস্তানের বোলারদের উপর চড়াও হন অধিনায়ক ইয়োইন মরগান ও বাটলার। ইনিংসের শেষ ৮৯ বলে ১৬২ রান যোগ করেন তারা। যেখানে ৫০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান বাটলার৷ ইংরেজ ব্যাটসম্যান হিসেবে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরি৷ আর বিশ্বের মধ্যে দশম দ্রুততম৷ ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৫৫ বলে অপরাজিত ১১০ রান করেন তিনি। অন্যদিকে মরগান ৬টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৮ বলে অপরাজিত ৭১ রান করেন। পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও ইয়াসির শাহ ১টি করে উইকেট নেন।

ইংল্যান্ডের দেওয়ার পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৯২ রান ওঠার পর দ্বিতীয় উইকেটে ফখরের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৩৫ রান যোগ করেন বাবর আজম। অর্ধশতরান (৫১) সম্পূর্ণ করে ফেরেন তিনি।

ইংল্যান্ডের পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করার লক্ষ্যে ওপেনার ফখর জামানের ধুন্ধুমার ব্যাটিং ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখায় পাকিস্তান শিবিরে। ফখরের ১৩৮ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ১২টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

অনবদ্য ইনিংস খেলে জামান ফিরে যাওয়ার পর আসিফ আলির ৫১ ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের অপরাজিত ৪১ রান আশার আলো দেখালেও তা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

শেষ দুই ওভারে তাদের ২৭ রান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা ১৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৬১ রানে শেষ হয় পাক ইনিংস। ইংল্যান্ডের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন ডেভিড উইলি ও লিয়াম প্লাঙ্কেট। একটি করে উইকেট নেন ক্রিস ওকস, মইন আলি ও আদিল রশিদ। একটি উইকেট নিলেও ১০ ওভারে সর্বোচ্চ ৮১ রান খরচ করেন রশিদ খান। ম্যান অফ দা ম্যাচ নির্বাচিত হন জশ বাটলার।

মন্তব্য: