ফাইনালে যেতে অসাধ্য সাধন করতে হলো লিভারপুলকে। অনেকে বিশ্বাস না করলেও সেটাই করে দেখালো তারা। বার্সেলোনার মতো একটি দলের বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফিরতি লেগ ৪-০ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে অলরেডরা।

মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ অ্যান্ডফিল্ডে লিভারপুলের স্কোয়াডে ইনজুরির জন্য ছিলেন না মোহাম্মদ সালাহ ও আরেক তারকা রবার্তো ফিরমিনো। এই দুই তারকার অনুপস্থিতিতে লিভারপুলের হয়ে মহাকাব্যের রাতে জোড়া গোল করেছেন ওরিগি ও উইনালডাম।

সালাহ-ফিরমিনোর অনুপস্থিতিতে লিভারপুলের আপফ্রন্টে ম্যাচের শুরুতে ছিল ওরিগি ম্যাজিক। অধিনায়ক হান্ডারসনের গোলমুখী শট টার স্টিগেন প্রতিহত করলে ওত পাতা শিকারির মত ফিরতি বল জালে রাখেন ডিভোক ওরিগি।

পিছিয়ে পড়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে সাফল্য মেলেনি বার্সার। মধ্যবিরতির পর জর্জিনিও উইনালডামকে নামান ক্লপ। এ ডাচ মিডফিল্ডার বার্সার আশা শেষ করে দেন জোড়া গোল করে। প্রথমে ৫৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, দুই মিনিট পর শাকিরির ক্রসে মাথা ছুঁয়ে নিজের জোড়া ও দলের তৃতীয় গোলটি আনেন উইনালডাম।

চতুর্থ ও শেষ গোলটি লিভারপুলের হয়ে কর্নার থেকে আদায় করে নিয়েছে চাতুর্যতার সহিত। কর্নার কিক নিতে যান আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড। তিনি দেখতে পান তখনও বার্সার রক্ষণভাগ নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারেনি। সেই সুযোগে নিচু শটে তিনি ডি বক্সের মধ্যে থাকা অরিগিকে বল বাড়িয়ে দেন। সজাগ থাকা অরিগি কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগে ডান পায়ের শটে জালে জড়ান বল (৪-৩)।

শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। বার্সেলোনা বিদায় নেয় শেষ চার থেকে। আর লিভারপুল টানা দ্বিতীয়বারের মতো পৌঁছে যায় ফাইনালে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে লিভারপুল হল তৃতীয় কোনো দল যারা সেমিফাইনাল প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে উঠেছে।

মন্তব্য: