গত কয়েকদিন ধরে করোনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর বাংলাদেশের পত্র পত্রিকাগুলোতে যেন নেগেটিভ খবরের ছড়াছড়ি। যার মধ্যে অন্যতম খবর দুটি হলো করোনা ঠেকানোর ব্যাপারে অব্যবস্থা আর দ্বিতীয়টি বিদেশ ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কোয়ারেন্টাইনে না থেকে মনের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়িয়ে করোনা ছড়িয়ে দেয়া। যার ফলশ্রুতিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৭ জন এবং মৃত্যু একজনের। তবে আশার খবর হলো সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন তিনজন।

পরিস্থিতি যখন এতটাই খারাপের দিকে ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীকে আপনার ধন্যবাদ জানাতেই হবে। বিদেশ ফেরত এই চিকিৎসক সরকারের নির্দেশ মেনে নিজে তো কোয়ারেন্টাইনে থাকছেনই, সঙ্গে নিয়েছেন অন্য দুই বিদেশ ফেরত তরুণ ক্রিকেটার সাদমান ইসলাম অনিক ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুণকেও।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীকে সঙ্গী করে চলতি মাসের শুরুতে কবজির চোটে আক্রান্ত বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ও কাঁধের ইনজুরিতে পড়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার মৃত্যুঞ্জয়কে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছিল বিসিবি।

১৮ মার্চ দেশে ফিরেই তারা স্বইচ্ছাই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় এক দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা দুদিন হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছি। আমার সঙ্গে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরেছে (সাদমান ইসলাম) অনিক ও মৃত্যুঞ্জয় (চৌধুরী নিপুণ)। আমরা তিনজনই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। সরকারের নির্দেশ এটি, আমাদের মানতেই হবে। আমরা যদি না মানি অন্যদের জন্য এটি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

দেবাশিষ চৌধুরী মনে করেন দেশের মানুষদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিদেশ ফেরত সবারই সরকারের এই নির্দেশ মেনে চলা উচিত, ‘এটা বিদেশ থেকে যারা আসবে সবারই উচিত। নিজে যেন ভুল করে অন্যের জন্য বিপদ না হয় এটাই ভাবতে হবে। করোনা নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়া যাবে না।’

সার্জারির পর সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয়ের অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘ওরা দু’জন (সাদমান-মৃত্যুঞ্জয়) ভালো আছে। মাঠে ফেরার বিষয়টা এখন বলা কঠিন। তবে তিন মাস লাগবেই। বেশিও লাগতে পারে।’

মন্তব্য: