যদিও আন্দ্রে রাসেলের টর্নেডো শুক্রবার রাতে বিরাট কোহলির সেঞ্চুরির কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে কোহলিদের মনে বিশাল ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন রাসেল। শেষ অবধি কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে হারাতে পারলেন না ২৫ বলে ৬৫ রানের ঝড় তুলেও। ১১ ওভারে আশির নিচে রান থাকলেও ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিকে রাসেল রানা ঝড়ে হারতে হয়েছে ১০ রানের ব্যবধানে।

চলতি আইপিএলেই অতিমানবিক ব্যাটিং করে দু’হাত ভরে আশ্বস্ত করে চলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স সমর্থকদের। যে কারণে অনুরাগীরা সংক্ষেপে তাকে ডাকছেন ‘দ্রে রাস’ নামে। ধারাবাহিকই ধুন্ধুমার ইনিংস খেলার কারণে নাইট ব্যাটিং এখন সিংহভাগই নির্ভরশীল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং ‘দৈত্য’ আন্দ্রে রাসেলের ওপর।

কাঁধের চোটেও অকুতোভয় ‘দ্রে রাস’ এদিন ইডেন গার্ডেন্সে খেললেন ২৫ বলে ৬৫ রানের ‘বিস্ফোরক’ ইনিংস। কেকেআর ১০ রানে ম্যাচ হারলেও নাইট সমর্থকদের কাছে ক্রমেই ‘অবিসংবাদি নায়ক’ হয়ে উঠেছেন রাসেল।

বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সম্প্রতি রাসেল জানালেন, ক্যারিয়ারে এমন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলের। তিনি জানিয়েছেন, গেইলই তার জীবন বদলে দিয়েছেন। গেইলের একটা উপদেশ তার ক্যারিয়ার পাল্টে দিয়েছে। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন গেইল এসে তাকে বলেন, ‘রাস তুমি যথেষ্ট শক্তিশালী। পাওয়ার হিটিংয়ের ক্ষেত্রে হালকা ব্যাটের পরিবর্তে ভারি ব্যাট তোমার জন্য অনেক সহায়ক হবে।’

বাকিটা তো ইতিহাস। ২০১৬ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় বদলে দিয়েছিল রাসেলের ক্যারিয়ার। গেইলের পরামর্শ মেনে সেমিফাইনালে ৪৩ বলে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। পরে ব্র্যাথওয়েটের সেই চার ছক্কায় বিশ্বকাপ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখনও পর্যন্ত চলতি আইপিএলে ৩৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ক্যারিবিয়ান পিঞ্চ হিটার।

চলতি মৌসুমে শুরুটা ভালো করেও টানা চার ম্যাচ হেরে লিগ টেবিলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে রাসেলের দল কেকেআর। তবুও পার্পল জার্সি গায়ে তার বিস্ফোরক ইনিংসে কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির দেনা শোধ করছেন রাসেল। সাক্ষাতকারে এমনটাই জানালেন তিনি।

কারণ, ২০১৭ সালে ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পরেও কেকেআর তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বাদ দেয়নি। এ কারণেই তাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আইপিএলে এ যাবৎ ৯ ম্যাচে ৩৭৭ রানের মালিক জানালেন, ‘ওই সময় আমি খুবই হতাশ ছিলাম। কিন্তু ভেঙ্কি মাইসোর (কেকেআর সিইও) হঠাৎই একদিন ফোন করে জানান, তোমাকে আমরা পুনরায় দলে রাখছি। ওই ঘটনা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছিল।’

মন্তব্য: