এবারের আইপিএল-এ প্রথম টাই ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন ফিরোজ শাহ কোটলার দর্শকরা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে সুপার ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তিন রানে হারিয়ে দিল দিল্লি ক্যাপিটালস। সুপার ওভারে দিল্লি প্রথমে ব্যাটিং করে এক উইকেট হারিয়ে ১০ রান করে। জবাবে এক উইকেটে সাত রান করে কেকেআর। ফলে রুদ্ধশ্বাস জয় পায় দিল্লি। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে জেতালেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা।

এর আগে এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৮৫ রান করে কেকেআর। ইডেনের পর ফিরোজ শাহ কোটলাতেও আন্দ্রে রাসেলের দাপট অব্যাহত থাকে। চাপের মুখে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ২৮ বলে ৬২ রান করেন এই ক্যারিবিয়ান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি ছক্কা ও চারটি বাউন্ডারি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকও করেন ৫০ রান। এই দুই ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে ৬১ রানে ৫ উইকেট অবস্থা থেকে লড়াইয়ের মতো রান করতে পারে কেকেআর।

এদিন দিল্লি টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কলকাতার হৃদকম্পন বাড়িয়ে ৪৪ রানের মধ্যে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। চোটগ্রস্ত সুনীল নারিনের জায়গায় খেলতে নামা নিখিল নায়েক ৭ রান করে ফেরেন। ক্রিস লিন করেন ২০ রান। তিন নম্বরে নামা রবীন উথাপ্পা ১১ রান ও আগের ম্যাচের অন্যতম নায়ক নীতীশ রানা করেন ১ রান।

এই অবস্থা থেকে খেলা ধরেন অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক। শুভমান গিল মাঝে ৪ রানে ফিরে গিয়েছেন। কলকাতার রান তখন ৬৪ রানে ৫ উইকেট। নামেন আন্দ্রে রাসেল। সেখান থেকে খেলা ধরে কলকাতা। কার্তিক ৩৬ বলে ৫০ রান ও আন্দ্রে রাসেল ২৮ বলে ৬২ রানে বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। সবমিলিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে কলকাতা ১৮৫ রান তোলে।

রান তাড়া করতে নেমে তরুণ ওপেনার পৃথ্বী শ-র ৫৫ বলে ৯৯ রানের অসাধারণ ইনিংসের সুবাদে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় দিল্লি। নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া করেন পৃথ্বী। দিল্লির অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার করেন ৪৩ রান। ৬ উইকেটে ১৮৫ রান করে দিল্লি। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে দিল্লির হয়ে ব্যাট করতে নামলেন ঋষভ পান্থ ও শ্রেয়াস আয়ার। কলকাতার হয়ে বল করছেন প্রসীধ কৃষ্ণা। প্রথম বলে ১ রানের পর দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আউট হয়ে যান শ্রেয়াস। তিন নম্বরে নামেন পৃথ্বী শ। তবে সুপার ওভারে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি তিনি। শেষ তিন বলে পান্ত ৫ রানের বেশি তুলতে পারেননি।

সুপার ওভারে দিল্লি ১০-১। কলকাতা হয়ে ওপেন করতে নামেন আন্দ্রে রাসেল ও দীনেশ কার্তিক। দিল্লির হয়ে বল করতে আসেন রাবাডা। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান রাসেল। তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে যান রাসেল। তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন রবি উথাপ্পা। এক বলে পাঁচ রান দরকার ছিল কলকাতার কিন্তু রানই নিতে পারেন কার্তিক। ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি। শুরুর নায়ক পৃথ্বী শ, শেষটা রাবাডার।

মন্তব্য: