বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ষষ্ঠ আসরের চার পর্বের খেলা শেষ হয়েছে। আগামীকাল থেকে ফের শুরু হবে ঢাকা পর্বের ম্যাচ গুলো। আজ বিপিএলে কোনো খেলা নেই। আগামীকাল শুক্রবার ঢাকার মিরপুরে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের শেষ ধাপের খেলা।

চার পর্বের খেলা শেষে এর মধ্যেই তিনটি দল প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে। দল তিনটি হলো মাশরাফির রংপুর রাইডার্স, কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংস। অন্যদিকে সিলেট এবং খুলনা প্লে অফের রেস থেকে ছিটকে পড়েছে। প্লে অফের একটি মাত্র জায়গার জন্য লড়াই করবে রাজশাহী ও ঢাকা। এই দুটি দলের যে কোনো একটি দল প্লে অফের জায়গা করে নিবে।

প্লে অফে যাওয়া ৪টি দলের মধ্যে প্রথম ২টি দল সরাসরি কোয়ালিফায়ার খেলবে। আর অন্য ২টি দলকে এলিমিনেটরের মধ্য দিয়ে জিতে তারপর কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিতে হবে। কোয়ালিফায়ারে যে জিতবে, সে সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে। আর কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া টিম পাচ্ছে আরেকটা সুযোগ। এলিমিনেটরে যে জিতবে, সে খেলবে কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া টিমের সাথে, এবং এই ম্যাচে যে জিতবে সে ফাইনালে উঠে যাবে। এলিমিনেটরে হেরে যাওয়া টিমটির জন্যে থাকবে না আর কোনো সুযোগ। আর তাই টপ ২টা প্লেসের জন্যেও চলবে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা!

রাজশাহী: পদ্মা পাড়ের এই দলটি ইতিমধ্যেই তাদের সবকটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ১২টি ম্যাচ খেলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের ৪র্থ স্থানে। প্লে অফে খেলতে হলে তাদের চেয়ে থাকতে হবে ঢাকার পরাজয়ের দিকে। ঢাকা যদি তাদের শেষ ২টি ম্যাচের ২টিতেই পরাজিত হয়, কেবল তবেই রাজশাহী প্লে অফে খেলতে পারবে। ঢাকা ১টি ম্যাচ জিতলেই বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী।

ঢাকা: টানা ৪ ম্যাচে পরাজয়ের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা ঢাকা ১০ ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৫ এ অবস্থান করছে। শেষ ২টি ম্যাচে একটি ম্যাচ জিতলেই তারা নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে প্লে অফে চলে যাবে। পয়েন্ট টেবিলের টপ টু তে থেকে কোয়ালিফায়ার খেলার সম্ভবনাও রয়েছে ঢাকার। তবে সেজন্যে শুধু ২টি ম্যাচের দুটিতেই জিতলেই হবে না, সাথে সাথে চট্টগ্রাম বনাম সিলেটের’ ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারতেও হবে। ঢাকা যদি তাদের শেষ দুটি ম্যাচ জিতে এবং চট্রগ্রাম যদি তাদের শেষ ম্যাচটি হেরে যায়, তবেই সরাসরি কোয়ালিফায়ারে উঠে যাবে ঢাকা!

চট্রগ্রাম: ইতিমধ্যেই প্লে অফ নিশ্চিত করা দলটি ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে পয়েন্ট টেবিলের ৩ নম্বর পজিশনে। কোয়ালিফায়ার খেলতে হলে তাদের শেষ ম্যাচটি জিততেই হবে। আর হেরে গেলে এলিমিনেটর খেলতে হবে।

কুমিল্লা: ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ২ এ অবস্থান করলেও, সবকটি দলের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুমিল্লা। ২টি ম্যাচের মধ্যে কোনোভাবে ১টি জিতলেই তাদের কোয়ালিফায়ার খেলা নিশ্চিত। ২টি ম্যাচ হারলেও তাদের সুযোগ থাকবে প্লে অফে খেলার, তবে সেক্ষেত্রে চট্রগামের বিপক্ষে সিলেটকে জিততে হবে এবং ঢাকার বিপক্ষে খুলনাকে জিততে হবে।

রংপুর: টানা ৫ জয়ে মাশরাফি, এলেক্স হেলস, রাইলি রুশো, এবিডি ভিলিয়ার্স, গেইলদের রংপুর রাইডার্স যেন এই টুর্নামেন্টে আনবিটেবল টিম হয়ে উঠেছে। ১১ ম্যাচ খেলে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একদম ১ নম্বরে অবস্থান করছে রংপুর। শেষ ম্যাচে জয় পেলেই সরাসরি কোয়ালিফায়ারে উঠে যাবে রংপুর। তবে শেষ ম্যাচ হারলেও প্লে অফে যাওয়ার সম্ভবনা থাকবে রংপুরের। চট্রগ্রাম যদি সিলেটের কাছে হারে এবং ঢাকা যদি তাদের শেষ ২ ম্যাচের একটিতে হারে, তবে কোনো বাঁধা ছাড়াই কোয়ালিফায়ারে উঠে যাবে রংপুর।

মন্তব্য: