ভারতের সামনে ২১৩ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। বড় এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬তম ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনি আউট হয়ে গেলে ১৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতের হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকলেও শেষ ২৮ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান।

কিন্তু দিনেশ কার্তিক আর ক্রুনাল পান্ডিয়া দলকে ম্যাচে ফেরান অনেকটা অবিশ্বাস্যভাবেই। তবে শেষ ওভারে মাত্র ১৬ রান তুলতে পারলোনা ভারতের দুই সেট ব্যাটসম্যান। সাউদির অসাধারণ বোলিং শেষ রক্ষা হতে দিলোনা সফরকারিদের। শেষ ওভারে ১৬ রান দরকার ছিল কিন্তু সাউদি ২ টি ডট বল সহ শেষ বলে ১১ রান দেন।

হ্যামিল্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে দারুণ লড়াইয়ের পর ভারত হেরেছে ৪ রানে। তাতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজটা নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে প্রথম ম্যাচের মতোই ২১২ রানের পাহাড়সমান এক পুঁজি গড়ে কিউইরা। ওপেনার কলিন মুনরো ৪০ বলে খেলেন ৭২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। কম যাননি বাকিরাও। তারাও কম বেশি ঝড় তুলেছেন। আরেক ওপেনার টিম শেফার্ট করেন ২৫ বলে ৪৩। এছাড়া কেন উইলিয়ামসন ২১ বলে ২৭ রান করেন। আর ডি গ্র্যান্ডহোমের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ৩০ রান।

অন্য দিকে ২১৩ রানের পাহাড়সম টার্গেটের জন্য ব্যাট করতে নেমে ওপেনার শেখর ধাওয়ান মাত্র ৫ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। আরেক ওপেনার কাম অধিনায়ক রোহিত শর্মার ঢিমে তালে রান সংগ্রহ টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মোটেই মানানসই ছিল না। তিনি ৩২ বলে ৩৮ রান সংগ্রহ করেন। মাঝে ঝড় তোলা বিজয় শঙ্কর আর রিশাভ পান্ত ভারতের ফ্যানদের আশার আলো দেখিয়েছিলেন। শঙ্কর ২৮ বলে ৪৩ আর পান্ত ১২ বলে ২৮ রান করে আউট হন। শঙ্করের ৪৩ ছিল ২ ছয় আর ৫ চারের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস আর পান্তও কম যান না তিনি ৩ ছয় ও একটি চার মারেন।

এরপর হার্দিক পান্ডিয়াও খেলেন ১১ বলে ২১ রানের এক ইনিংস। যাতে ছিল ২ ছয় ও একটি চারের মার। কিন্তু তিনি আউট হবার পরের ওভারে অভিজ্ঞ ধোনি মাঠে নামলেও ৪ বল খেলে মাত্র ২ রানে মিচেলের বলে সাউদির হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ধোনি সাজঘরে ফিরলে বিপদে পড়ে ভারত, কারণ জয় তখনও অনেক দূরে।

তবে দিনেশ কার্তিক আর ক্রুনাল পান্ডিয়া সে করুন অবস্থা থেকেও দারুণভাবে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তবে তাদের লড়াই ভারতীয় সমর্থকদের মনে জয়ের শিহরণ জাগালেও জয় এনে দিতে পারেনি। কার্তিক ১৬ বলে চার ছয়ে ৩৩ আর ক্রুনাল ১৩ বলে ২ চার ২ ছয়ে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার আর ডেরিল মিচেল। আর টিকনার ও কুগেলেইজন নেন ১ টি করে উইকেট।

প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টির ১ নম্বর দল পাকিস্তান শেষ সাউথ আফ্রিকা সিরিজ হারার আগে টানা ১১ টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল। আর ভারত যদি নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে হারাতে পারতো তাহলে পাকিস্তানের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারতো ভারত।

মন্তব্য: